চুলের যত্নে মেহেদি পাতার ব্যবহার

BanglaTeach
E-Haq
Digital Marketer at- BanglaTeach

E-Haq is the founder of BanglaTeach. He is expertise on Education, Health, Financial, Banking,...

Sharing is caring!

চুলের যত্নে মেহেদি পাতার ব্যবহার
চুলের যত্নে মেহেদি পাতার ব্যবহার

মেহেদি শুধুমাত্র হাত কিংবা পায়ে ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ নয় বরং হাত ও পায়ে মেহেদি ডিজাইন এর পাশাপাশি চুলেও ব্যবহার করা হয়। চুলের যত্ন নিতে নারী-পুরুষ উভয়কে অনেক কিছুই ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে এই ক্ষেত্রে নারীরা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। যাইহোক, চুলের যত্নে মেহেদি পাতার ব্যবহার নিয়েই আজকে আমাদের আর্টিকেল। আসলেই কি কোনো উপকার পাওয়া সম্ভব চুলে মেহেদি ব্যবহার করে? যদি উপকার থাকে, তাহলে সেগুলো কি কি এবং কিভাবে ব্যবহার করবো সহ ইত্যাদি রকমের প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়েই আজকের আলোচনা।

চুলে মেহেদি ব্যবহার কিন্তু নতুন কোনো ব্যাপার নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চুলের মধ্যে মেহেদি ব্যবহার করে আসছে মানুষগণ। শুধু চুলে রং করার উদ্দেশ্যেই নয়, বরং এছাড়াও রয়েছে এর বহুমুখী উপকারিতা। যেহেতু মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে চুল ব্যাপক ভূমিকা রাখে, তাই চুলের যত্ন নেওয়া বোধহয় আমাদের সবারই উচিত। যাইহোক, আলোচনা বিলম্ব না করে চলুন মূল আলোচনায় প্রবেশ করি।

চুলের যত্নে মেহেদি পাতার উপকারিতা ও ব্যবহার

চুলের যত্নে মেহেদি পাতার উপকারিতা ও ব্যবহার

এখন হয়তো অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ‍চুলের যত্নে মেহেদি পাতার উপকারিতাগুলো কি কি? হ্যাঁ, অবশ্যই মেহেদি পাতার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে আলোচনার সুবিধার্থে বেশ কিছু পরীক্ষিত উপকারিতার পয়েন্ট তুলে ধরবো, যেগুলো দ্ধারা আপনি বা আমিও উপকৃত হতে পারি। মেহেদি পাতার উপকারিতাগুলো হলো-

  • মাথার ত্বকের পিএইচ (Ph) ব্যালেন্স বজায় রাখে
  • চুলের রুক্ষতা দূর করে
  • চুলের গোড়া মজবুত করতে
  • কন্ডিশনারের কাজ করে
  • চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে
  • খুশকি দূরে করে মাথার তালুর চুলকানি দূর করে
  • চুল পড়া বা অকালপক্বতা রোধ করে
  • প্রাকৃতিকভাবে চুল পরিষ্কার করে
  • মাথার ত্বক ঠাণ্ডা
  • চুল রঙ করতে
  • চুলকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে:

আমাদের মাথায় তথা চুলে মেহেদি পাতা ব্যবহারের মাধ্যমে উপরোক্ত উপকারিতাগুলো দ্ধারা আমরা সবাই চমৎকার ভাবে উপকৃত হতে পারি। যাইহোক, এবার চলুন উক্ত উপকারিতাগুলো ডিটেইলস সহ জানা যাক।

মাথার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স (Ph Balance) বজায় রাখে

সাধারণত তৈল ব্যবহারের কারণে কিংবা অন্য অনেক কারণে আমাদের স্কাল্প তৈলাক্ত হয়ে থাকে। যা পিএইচ ব্যালেন্সের উপর বিরূপ প্র্রভাব ফেলে। এই ক্ষেত্রে মেহেদি পাতা একটি মারাত্মক ভূমিকা পালন করে। যখন আমরা মাথায়/চুলে মেহেদি পাতা ব্যবহার করি, তখন সেটি ওভারজেলাস সেবাসেস গ্ল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ এর সাথে অয়েল প্রোডাকশন কন্ট্রোল করে। যা আমাদের মাথার ত্বকের পিএইচ মান সঠিক মাত্রায় নিয়ে আসে।

চুলের রুক্ষতা দূর করে

আমাদের যাদের চুলে রুক্ষতা তুলনামূলক একটু বেশি, সেক্ষেত্রে মেহেদি পাতা দ্ধারা উপকৃত হতে পারি। কিভাবে? এটা আমরা দুই ভাবে ব্যবহার করতে পারি। প্রথমটি হলো- বাটা মেহেদি পাতার সাথে অলিভ ওয়েল এবং সেটির সাথে ভিটামিন ই ট্যাবলেট মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুণ। এরপর উক্ত মিশ্রণটি চুলে প্রলেপ দিন। এভাবে আপনি সপ্তাহে একবার করে ব্যবহার করতে পারেন।

অন্য পদ্ধতিটি হলো- বাটা মেহেদি পাতার সাথে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে এবং তাতে পুনরায় পরিমাণ মতো করে টক দই মিশিয়ে একটি ভালো মিশ্রণ তৈরি করুণ। এভাবে মিশ্রণটি তৈরির পর এবার সেটি আপনার চুলে ভালোভাবে প্রলেপ করুণ এবং কয়েক মিনিট পর তা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

মূলত উপরোক্ত এই দুই পদ্ধতি অবলম্বণ করার মাধ্যমে আপনি চুলের রুক্ষতা ও চলের আগা ভেঙ্গে যাওয়া হতে মুক্তি পেতে পারেন।

চুলের গোড়া মজবুত করে

সাধারণত আমাদের যাদের চুলের গোড়া একদম নরম অর্থাৎ সামান্য টান পড়তেই মাথা হতে চুল উঠে আসে, তাদের জন্য উক্ত পদ্ধতিটি বেশ উপকারক হবে। এর জন্য আপনি মেহেদি পাতা বেটে তা মাথায় তথা চুলে লাগিয়ে দিতে হবে। কয়েক মিনিট পর তা ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এখানে উল্লেখ্য বিষয় হলো চুলের গোড়া মজবুত করতে অবশ্যই সপ্তাহে একবারের উপর মেহেদির প্রলেপ ব্যবহার হতে বিরত থাকবেন। অন্যথায় চুলের মধ্যে রুক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে

আচ্ছা, কন্ডিশনারের কাজ কি? কন্ডিশনার আমাদের চুলে কি করে? মূলত কন্ডিশনার মূল কাজ হলো আমাদের চুলগুলোকে তুলনামূলক মসৃণ ও উজ্জ্বল করার পাশাপাশি পরিষ্কার করা। সেই একই কাজ কিন্তু মেহেদি পাতাও করে থাকে। মেহেদি পাতা. ডিম, টক দইয়ের মিশ্রণ আমাদের চুলে ডিপ কন্ডিশন হিসেবে কাজ করে। এর জন্য আমাদের প্রথমে একটি পাত্রে বাটা মেহেদি পাতা নিতে হবে। তার সাথে কিছু টক দই ও ডিম মিশ্রিত করে নিন। এভাবে প্যাকটি তৈরি করে মাথায় তথা চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ঘন্টা-খানেক পর ভালোভাবে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। এভাবে যদি আপনি নিয়ম অনুযায়ী মেহেদি ব্যবহার করেন, তাহলে চুলে একটি ন্যাচারাল ভাব চলে আসবে।

চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে

চুলের ঘনত্ব বলতে নতুন চুল গজানোকে বোঝানো হয়েছে। আমাদের অধিকাংশেরই চুল অনেক পাতলা। হোক সেটা জন্মগত কিংবা নানা ধরনের বহুমুখী কারণে। এখন এই পাতলা চুলকে আমরা মেহেদি পাতা ব্যবহারের মাধ্যমে ঘন করে তুলতে পারি। অর্থাৎ নতুন চুল গজাবে। কিভাবে? জাস্ট প্রতি সপ্তাহে একবার করে মেহেদি পাতার প্যাক আপনার চুলে ব্যবহার করুণ। এতে করে আপনার মাথার ত্বকে নতুন চুল গজানোর জন্য পরিবেশ তৈরি হবে। এভাবে কয়েক বার ব্যবহার করুণ।

খুশকি দূরে করে মাথার তালুর চুলকানি দূর করে

মাত্রারিক্ত মাথায় খুশকি থাকলে আমাদের মাথার তালু পছন্দ রকম চুলকায়। যদিও তালু চুলকানির আরো অনেক কারণ রয়েছে। তবে ডেনড্রাপ বা খুশকি হলো অন্যতম। আর বেশিরভাগ শীতকালে এই সমস্যার ভুক্তভোগী হয়ে থাকে অনেকে। যাইহোক, খুশকি কেন হয়? মূলত আমাদের দেহের তেলগ্রন্থি তথা সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে ত্বকের তৈলাক্ত উপাদান বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হলে খুশকি দেখা দেয়। আর এটাকে হ্রাস করতে মেহেদি পাতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিভাবে ব্যবহার করবো? এরজন্য প্রথমে আপনাকে মেথি জোগাড় করতে হবে। এবং মেথিগুলো ব্যবহার করার 12 ঘন্টা পূর্বে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর মেথিগুলো বেটে তার সাথে সামান্য সরিষার তেল যুক্ত করে মেহেদি পাতা সহ মিশ্রণ তৈরি করুণ। এবার সেটা আপনার মাথার ত্বকে তথা চুলে ভালোভাবে ব্যবহার করুণ। দুই থেকে তিন ঘন্টা মাথায় রাখার পর তা সুন্দর করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে মেহেদি পাতা ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই খুশকি দূর করে মাথার চুলকানি দূর করতে পারেন।

চুল পড়া বা অকালপক্বতা রোধ করে

চুলের নানামুখী সমস্যাগুলোর মধ্যে চুল পড়া হলো অন্যতম। অনেক কারণেই চুল পড়ে থাকে। হরমোণ, বংশগঠিত সমস্যা, কোষ মরা সহ ইত্যাদি কারণ। যাইহোক, আমরা কিন্তু মেহেদি পাতা ও অলিভ ওয়েল ব্যবহার করে এই সমস্যা হতে খানিকটা হলেও মুক্তি পেতে পারি। কিভাবে? প্রথমে মেহেদি পাতাগুলো খুব ভালোভাবে পিষতে হবে এবং এরপর সেটার সাথে সামান্য পরিমাণ অলিভ ওয়েল যোগ করতে হবে। এরপর মাথায় দিয়ে দিতে হবে। এভাবে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুণ কয়েকবার। তবে এখানে বিশেষ দ্রষ্ট্রব্য হলো অবশ্যই খালি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কোনো ধরনের শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না। যদি একান্ত ব্যবহার করতেই চান, তাহলে মেহেদি দেওয়ার এক-দুদিন পর ব্যবহার করুণ। এভাবে মেহেদি পাতা ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি চুল পড়া রোধ করতে সক্ষম হবেন।

প্রাকৃতিকভাবে চুল পরিষ্কার করে

নানা রকম কারণে আমাদের চুল অপরিষ্কার থাকে। এর মধ্যে অন্যতম কিছু কারণ হলো- ধূলা-বালি, খুশকি সহ ইত্যাদি। তবে যাইহোক না কেন, আপনি যদি নিয়মিত মেহেদি পাতা আপনার চুলে ব্যবহার করে তা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেন, তাহলে আপনার চুল বেশ চমৎকারভাবে পরিষ্কার থাকবে।

মাথার ত্বক ঠাণ্ডা

মাথার ত্বক তুলনামূলক ঠান্ডা রাখতে মেহেদি পাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার মাথার ত্বক যদি অল্পতেই গরম হয়ে যায় কিংবা অন্য কোনো কারণে, তাহলে আপনি পরিমিত মেহেদি পাতার বাটা মিক্সার ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার মাথার ত্বক অনেকটাই ঠান্ডা হয়ে যাবে।

চুল রঙ করতে বা চুল রাঙাতে

আমাদের চুলের জন্য অ্যামাইনো এসিড খুব মারাত্মক। যা বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের রঙ্গের কালিগুলোতেই উপস্থিত থাকে। যাইহোক, সম্পূর্ণ ন্যাচারেলি যদি আপনি চুল রঙ্গিন করতে চান, তাহলে এই ক্ষেত্রে মেহেদি পাতার পেস্ট খুব কার্যকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। আর এই প্রাকৃতিক উপায়ে করা রং দীর্ঘস্থায়ীও হয়।

চুলকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে:

আপনার চুল যখন পরিষ্কার, চকচক করবে, তখন এমনিতেই সেগুলোকে প্রাণবন্ত দেখাবে। আর এই কাজটি আমরা মেহেদির মাধ্যমে করতে পারি। অনেকে হেয়ার স্টাইলের জন্য সেলুনে গিয়ে চুলকে উজ্জ্বল করে যা মোটেও আমাদের চুলের জন্য উপকারী নয়। তবে আমরা যদি মেহেদি পাতার পেস্ট ব্যবহার করি, তাহলে আমাদের চুলকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করতে পারি খুব সহজেই।

যাইহোক, উপরোক্ত উপকারিতাগুলো আমরা মেহেদি পাতা থেকে পেতে পারি শুধু মাত্র চুলের যত্নের ক্ষেত্রে। এমনিতে আরো অনেক ধরনের উপকার রয়েছে। তবে এখানে যে কয়েকটি তুলে ধরেছি, সেগুলো হলো খুব কার্যকারী। তাই আপনি চুলের যত্নে মেহেদির পাতার উপরোক্ত ব্যবহারগুলো করতে পারেন। আশা করি, উপকৃত হতে পারবেন। সর্বপরি, আজকের আর্টিকেলটি দ্ধারা আমরা চুলে মেহেদি পাতা লাগানোর নিয়ম সহ মেহেদি পাতার বহুমুখী কয়েকটি উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। আশা করি পরবর্তী আর্টিকেলগুলো হবে চুলের যত্নে সরিষার তেল ও মেহেদি, চুলের যত্নে মেহেদি ও ডিম মেহেদি পাতার অপকারিতা সহ আনুসাঙ্গিক অন্য সকল বিষয় নিয়ে।

ওভারঅল, মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়ে থাকলে, যেকেউ মেহেদি পাতা দ্ধারা উপকৃত হতে পারবে পাশাপাশি চুলের যত্নেও উল্লেখিত ট্রিকসগুলো ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারে।

চুলের যত্নে মেহেদি পাতার ব্যবহার সম্পর্কে আরো জানতে

BanglaTeach
E-HaqDigital Marketer at- BanglaTeach

E-Haq is the founder of BanglaTeach. He is expertise on Education, Health, Financial, Banking, Religious and so on.

Leave a Comment