মানব ধর্ম কবিতা – লালন শাহ। বাংলা ১ম পত্র অষ্টম শ্রেণি ২০২৩

মানব ধর্ম কবিতা
ekram145
UX/UI Designer at - Adobe

Sharing is caring!

এখানে মানব ধর্ম কবিতা টি দেওয়া আছে। সব লােকে কয় লালন কী জাত সংসারে গানটি ‘মানবধর্ম’ কবিতা হিসেবে পাঠ্য বইয়ে সংকলিত হয়েছে। এ কবিতায় লালন ফকির মানুষের জাত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। নিজে কোন ধর্মের বা জাতের, এমন প্রশ্ন লালন সম্পর্কে আগেও ছিল এখনও আছে। নিচে থেকে কবিতার ব্যাখ্যা ও মূলভাব সহ কবিতা সংগ্রহ করুন।

মানব ধর্ম কবিতা

এই অংশে মানব ধর্ম কবিতা টি শেয়ার করেছি। কবিতা লিখেছেন লালন শাহ। মানুষের মধ্যে জাত, ধর্মের ভেদাভেদ নিয়ে কবিতা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে কবিতা দেওয়া হয়েছে। পরের অংশে এর ব্যাখ্যা পেয়ে যাবেন।

মানবধর্ম
-লালন শাহ্

সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে।
লালন কয়, জেতের কী রূপ, দেখলাম না এ নজরে ।।

কেউ মালা, কেউ তস্‌বি গলায়,
তাইতে কী জাত ভিন্ন বলায়,

যাওয়া কিংবা আসার বেলায়
জেতের চিহ্ন রয় কার রে।।

গর্তে গেলে কূপজল কয়,
গঙ্গায় গেলে গঙ্গাজল হয়,

মূলে এক জল, সে যে ভিন্ন নয়,
ভিন্ন জানায় পাত্র-অনুসারে।।

জগৎ বেড়ে তেজের কথা,
লোকে গৌরব করে যথা-তথা,

লালন সে জেতের ফাতা
বিকিয়েছে সাত বাজারে।।

মানব ধর্ম কবিতার পাঠ পরিচিতি

সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’ গানটি ‘মানবধর্ম’ কবিতা হিসেবে এ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এ কবিতায় লালন ফকির মানুষের জাত-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। নিজে কোনো ধর্মের বা জাতের এমন প্রশ্ন লালন সম্পর্কে আগেও ছিল এখনো আছে। লালন বলেছেন, জাতকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মনুষ্যধর্মই মূলকথা। জন্ম-মৃত্যু কালে কী কোনো মানুষ তসবি বা জপমালা ধারণ করে থাকে? সে-সময় তো সবাই সমান। মানুষ জাত ও ধর্মভেদে যে ভিন্নতার কথা বলে লালন তা বিশ্বাস করেন না।

মানব ধর্ম কবিতার লেখক পরিচিতি

লালন শাহ্ মানবতাবাদী মরমি কবি। সাধক সিরাজ সাঁই বা সিরাজ শাহ্‌র শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পর তিনি লালন সাঁই বা লালন শাহ্ নামে পরিচিতি অর্জন করেন। গানে তিনি নিজেকে ফকির লালন হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালাভ না করলেও নিজের চিন্তা ও সাধনায় তিনি হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মীয় শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন। এই জ্ঞানের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির মিলনে তিনি নতুন এক দর্শন প্রচার করেন। গানের মধ্য দিয়ে তাঁর এই দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। অধ্যাত্মভাব ও মরমি রসব্যঞ্জনা তাঁর গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তিনি সহস্রাধিক গান সৃষ্টি করেন। লালন শাহ্ ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে ঝিনাইদহ, মতান্তরে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই অক্টোবর কুষ্টিয়ার ছেউরিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মানব ধর্ম কবিতার শব্দার্থ ও টীকা

কয় – বলে।
জেতের – জাতের। এখানে জাতি বা ধর্মকে বোঝানো হয়েছে ।
যাওয়া কিংবা আসার বেলায়- জন্ম বা মৃত্যুর সময়।
কূপজল – কুয়োর পানি।
গঙ্গাজল – গঙ্গা নদীর পানি। এখানে পবিত্র অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। গঙ্গার জল হিন্দুদের কাছে পবিত্রতার প্রতীক।
জেতের ফাতা – জতি বা ধর্মের বৈশিষ্ট্য অর্থে ।

মানবধর্ম কবিতার  ব্যাখ্যা

মানুষ লালনকে তাঁর জাত-পাত সম্পর্কে প্রশ্ন করে জানতে চায়। তারা জানতে চায় তিনি কোন্ ধর্মের লােক বা তাঁর পরিচয়ই বা কী ? এটা মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা সে অন্যের জাত , ধর্ম ইত্যাদি পরিচয় জানতে চায়।

মানুষের জিজ্ঞাসার উত্তরে লালন বলেন , তিনি তাঁর নজর বা দৃষ্টি শক্তি দিয়ে বিচার করে জেতের তথা জাতের পরিচয় জানতে সক্ষম হননি। তিনি এ কথা দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন তাঁর কাছে সব মানুষ একই মনে হয়েছে। জাত কীভাবে মানুষকে আলাদা করে তা তিনি বুঝতে পারেননি।

কবি লালন শাহ এখানে বলতে চেয়েছেন, আমরা কিছু বাইরের বৈশিষ্ট্য বা চিহ্ন দিয়ে জাত বিচার করি। যেমন: হিন্দু ঋষি, সন্ন্যাসিরা গলায় বুদ্রাক্ষের মালা পরেন, আবার মুসলমান মৌলবি বা মাওলানার গলায় থাকে তসবি। এসবই বাইরের দিক। এসব দিয়ে জাতবিচার অনেক সময় সঠিক হয় না।

সব জাত ও ধর্মের মানুষই জন্মের সময় একইভাবে পৃথিবীতে আসে। সদ্যোজাত মানবসন্তানের গায়ে আলাদা কোনাে জাতের চিহ্ন থাকে না। তেমনি মৃত্যুর পর মানবদেহ যখন ধুলায় পরিণত হয়, তখন তাও কোনাে জাতের চিহ্ন বহন করে না।একটা নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং মৃত কঙ্কাল দেখে তার জাত পরিচয় শনাক্ত করা যায় না।

একই জল যখন গর্তের মধ্যে থাকে তখন তাকে আমরা কুয়ার জল বলি। আবার সেই জল গঙ্গায় প্রবাহিত হলে তাকে গঙ্গাজল বলি। হিন্দুদের কাছে গঙ্গা নদীর পানি পবিত্রতার প্রতীক।

কবি বুঝাতে চেয়েছেন সব জলই এক। ভিন্ন পাত্রে রাখলে তার ভিন্ন পরিচয় হয়। সাধারন গর্ত বা কুয়ার মধ্যে থাকলে তার এক রকম পরিচয়, আবার সেইমএকই জল যদি গঙ্গার মতাে পবিত্র নদীতে থাকে তবে তার আরেক ধরনের পরিচয়। তেমনি মানুষও সব একই রকমের। এক এক জাতে জন্ম নিয়ে ভিন্ন পরিচয় পায়।

পৃথিবীতে মানুষের কাছে তার জাতের পরিচয়টাই বড়। তারা জাত পাত বা বংশ নিয়ে এখানে সেখানে গৌরব করে বেড়ায়। অথচ তা ঠিক নয়। কারণ জাত-পাতই মানুষের মূল পরিচয় নয়।

শেষ কথা

আশা করছি এই পোস্ট থেকে স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ  সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এই রকম আরও ভালো ভালো পোস্ট পেতে আমার সাথেই থাকবেন। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সকল শ্রেণির শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা হয়।  আমার সাথে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালোথাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

আরও দেখুনঃ

মানব ধর্ম কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর পিডিএফ – অষ্টম শ্রেণি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *